Online Birth Certificate: অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম, পূরণ করার A-Z নিয়ম ২০২২

Spread the love

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানা নেই। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকার সকলের জন্য জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ অনলাইন করার জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। 

আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত বা আপনার সন্তান অথবা আপনার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের জন্য অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে চান তাহলে এই আর্টিকেল টি আপনার অনেক কাজে লাগবে। নির্ভুলভাবে জন্ম নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হলে আপনাকে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ফরম (Online Jonmo Nibondhon From) পূরণ করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে এই এই আর্টিকেলের মাধ্যমে ছবি সহ আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো। 

এই নিবন্ধের মাধ্যমে যা যা জানতে পারবেন

  • জন্ম নিবন্ধন আবেদন
  • জন্ম নিবন্ধন আবেদনের জন্য কি কি কাগজ লাগে
  • জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফি
  • অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার নিয়ম

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম:

বর্তমানে যেহেতু হাতে লেখা ফরম পূরণ করে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যায় না। তাই অবশ্যই আপনাকে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এছাড়া একটি শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে তার জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। 

তবে বিভিন্ন অসূবিধার কারণে ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন না করতে পারলে অবশ্যই ৫ বছরের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কেননা বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন আইন অনুযায়ী ৫ বছরের পর শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলে প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় এবং কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হয়। 

জন্ম নিবন্ধন আবেদনের জন্য কি কি কাগজের প্রয়োজন হয়:

শিশুর অথবা আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স অনুযায়ী অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। চলুন তাহলে এবার জেনে নিন কি কি কাগজ লাগতে পারে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে। 

শিশুর বয়স ৪৫ দিনের মধ্যে হলে যে সমস্ত কাগজ দরকার হবে :

১। ইপিআই বা টিকা কার্ড। 

২। পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম সনদের কপি।

৩। পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম সনদ না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

৪। বাড়ির হোল্ডিং বা ট্যাক্স সনদের কপি। 

৫। আবেদনকারীর বা আবেদনকারীর অভিভাবক এর মোবাইল নম্বর।

শিশুর বয়স ৪৫ দিনের বেশি ও ৫ বছরের নিচে হলে যে সমস্ত কাগজের দরকার হবে:

১। ইপিআই বা টিকা কার্ড (স্বাস্থ্যকর্মীর সাক্ষর ও সীল সহ)

২। পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম সনদের কপি।

৩। পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম সনদ না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

৪। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হতে গৃহীত প্রত্যয়ন পত্র। (সত্যায়িত) 

৫। বাড়ির হোল্ডিং বা ট্যাক্স সনদের কপি। 

৬। আবেদনকারীর বা আবেদনকারীর অভিভাবক এর মোবাইল নম্বর। 

শিশুর বয়স ৫ বছরের বেশি হলে যে সমস্ত কাগজের দরকার হবে:

১। ইপিআই বা টিকা কার্ড (স্বাস্থ্য-কর্মীর সাক্ষর ও সীল সহ)

২। বয়স প্রমাণের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক এমবিবিএস বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৩। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাথমিক, মাধ্যমিক অথবা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড পরিচালিত কর্তৃক সার্টিফিকেট। 

৪। পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম সনদের কপি। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৫। পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম সনদ না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

৬। স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রমাণ করার জন্য নাগরিকত্ব এর সত্যায়িত সনদ।

৭। বাড়ির হোল্ডিং বা ট্যাক্স সনদের কপি। 

৮। আবেদনকারীর বা আবেদনকারীর অভিভাবক এর মোবাইল নম্বর। 

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফি:

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। শিশুর বয়স যদি ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর বা এর কম হয় সেক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ফি ২৫ টাকা আর আবেদনকারীর বয়স ৫ বছরের বেশি হয় সেক্ষেত্রে  ৫০ টাকা নিবন্ধন ফি জমা দিতে হয়। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যাক্তি যদি জন্ম নিবন্ধন এর জন্য আবেদন করে সেক্ষেত্রে ১$ ( ১ ইউএস ডলার) আবেদন ফি হিসেবে দিতে হয়। 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম পূরণ:

আমাদের মধ্যে অনেকেরই জানা নেই যে, কিভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন ফরম পূরণ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তাই এই ব্লগের মাধ্যমে আমরা আপনাদের সাথে জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কে বিস্তারিত শেয়ার করছি। 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আগের পুরনো ওয়েবসাইট বাতিল করে নতুনভাবে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। বর্তমানে জন্ম সনদ আবেদনের জন্য https://bdris.gov.bd/ এই ওয়েবসাইট টি চালু রয়েছে। আবেদন ফরম পূরণ ও আবেদন সম্পর্কে জানতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

birth-certificate

  • আবেদনকারী ব্যাক্তির পরিচিতি ও জন্মস্থানের ঠিকানা

অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রথমে, https://bdris.gov.bd/ এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এখানে প্রবেশ করার পর আপনারা নিচের ছবির মতো একটি ফরম দেখতে পারবেন। 

এখানে, আপনি কোন ঠিকানায় জন্ম সনদ করতে চান তা বাছাই করুন। অর্থাৎ আবেদনকারী এখানে তার জন্ম স্থান,  স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা নির্বাচন করবেন। সঠিকভাবে ঠিকানা নির্বাচন করা হলে পরবর্তী বাটনে প্রেস করুন। 

পরবর্তী বাটনে প্রেস করার পর এবার আপনার সামনে নিচের ছবিটির মতো একটি ফরম দেখা যাবে। যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো উল্লেখ করতে হবে। 

এখানে নামের ১ম অংশে আপনার নামের ১ম অংশ এবং ২য় অংশে আপনার নামের শেষাংশ লিখতে হবে। একইভাবে ইংরেজিতে আবেদনকারীর নাম এবং অন্যান্য তথ্যগুলো সঠিকভাবে হালনাগাদ করতে হবে। সবকিছু সঠিকভাবে পূরণ করা হয়ে গেলে এবার পরবর্তী বাটনে প্রেস করুন। 

নোট: নামের শুধুমাত্র একটি অংশ থাকলে ১ম অংশটি ফাকা রেখে পরের অংশে নামের বাকি অংশ উল্লেখ করতে হবে। 

  • পিতা মাতার তথ্য হালনাগাদ করা 

এই ধাপে আবেদনকারীর পিতা মাতার তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। এখানে ব্যাক্তির পিতা ও মাতার অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম সনদের নাম্বার দিতে হবে। পিতা মাতার জন্ম সনদের নাম্বার দেয়া হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিতা মাতার নাম এবং অন্যান্য তথ্যগুলো আসবে। তবে, এগুলো আপনি এডিট করতে পারবেন না। 

তাই, আবেদনকারীর পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে আছে কিনা তা যাচাই কতে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, বাবা মায়ের জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে না থাকলে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন হয় না। 

আবেদনকারী ব্যাক্তির জন্ম সাল ২০০০ বা এর আগে হলে পিতা মাতার নাম ও অন্যান্য তথ্য লিখে দেয়া যাবে এবং এক্ষেত্রে পিতা মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন না থাকলেও চলবে। 

প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করে পরবর্তী বাটনে প্রেস করুন।

  • স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা 

এ পর্যায়ে আবেদনকারীর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রদান করতে হবে। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন এবং এখান থেকে কোনটিই নয় বাটনে ক্লিক করুন। 

ঠিকানা হালনাগাদ করার সময় স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা চেক বক্সে টিক দিন। অন্যদিকে দুটি ঠিকানা ভিন্ন হলে যথাযথ তথ্য দিয়ে হালনাগাদ করুন। এরপর পরবর্তী বাটনে প্রেস করুন।

  • আবেদনকারীর তথ্য

এ পর্যায়ে আবেদনকারীর তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। সাধারণত একটি শিশুর জন্মের পর জন্ম সনদের জন্য শিশুর পিতা-মাতা এবং পরিবার অন্যান্য সদস্য কে দায়ী করা হচ্ছে। তাই শিশুর জনক নিবন্ধনের জন্য তারাই আবেদন করে থাকে। 

এছাড়া আপনি নিজেও নিজের জন্ম সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনি যদি নিজেই আবেদনকারী হয়ে থাকেন তাহলে নিজ অপশন সিলেক্ট করুন। এরপর যথাযথ মোবাইল নাম্বার বা ইমেইল দিন। সব কিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপের জন্য এগিয়ে যান। 

  • আবেদনপত্র প্রিন্ট

সফলভাবে জন্ম নিবন্ধন ফরম টি সাবমিট করা হয়ে গেলে এবার আপনি আবেদন ফরম টি প্রিন্ট করার অপশন পেয়ে যাবেন। প্রিন্ট করার ক্ষেত্রে এমনভাবে প্রিন্ট করতে হবে যেনো কোনো পাশে কম বা বেশি না হয়ে যায়। 

যেহেতু Application ID ছাড়া আপনার নিবন্ধন সনদ টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই প্রিন্ট করার সময় Header ও Footer যেনো সফলভাবে প্রিন্ট করা আবেদন ফরমে দৃশ্যমান থাকে। আবেদন ফরম টি প্রিন্ট করার পর পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ অথবা সিটি কর্পোরেশন অফিসে জমা দিতে হবে। 

Leave a Comment