Passive Income: ১০টি প্যাসিভ ইনকাম আইডিয়া, টাকা আয়ের সহজ উপায়

বর্তমান সময়ে Passive Income বা প্যাসিভ আয় করার চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের Course করতে শুরু করে। প্যাসিভ ইনকামকে আমরা Part Time Job হিসেবে ধরে থাকি বা করে থাকি। আবার অনেকে প্যাসিভ ইনকাম করে নিজের Career তৈরি করে। তবে আপনার সাধারণ আয়ের সাথে যদি প্যাসিভ ইনকাম করে কিছু টাকা যোগ হয় তাহলে মন্দ কোথায়।

এজন্য আমি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের ১০টি প্যাসিভ আয়ের ধারণা দেওয়া চেষ্টা করব। প্রতিবেদনটি শুরু করার আগে প্যাসিভ আয় সম্পর্কে কিছু লেখা প্রয়োজন। মানে প্যাসিভ আয় কি? বা কাকে বলে? সেই সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন।

প্যাসিভ ইনকাম – Passive Income কাকে বলে ?

প্যাসিভ Income টাকা আয় করার এমন একটা মাধ্যম যেখানে আপনি কম সময়ে অধিক টাকা আয় করতে পারবেন। তবে শুরুতে অনেক বেশি hard work করতে হয়। কিন্তু এই পরিশ্রমটা সবসময় করার প্রয়োজন হয় না। এখন অনেকের এটা মনে হতে পারে যে, কম সময় পরিশ্রম করে অধিক টাকা বা সাধারণ আয়ের থেকে বেশি টাকা আয় করা আসলেই কি সম্ভব? উত্তরে আমি বলব হ্যাঁ! আসলে বর্তমান সময় Online হয়ে যাওয়ায় এই বিষয়টিকে আরো simple হয়ে গিয়েছে। আপনি যদি প্যাসিভ ইনকাম করে টাকা আয় করতে চান তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।

এই প্রতিবেদনে কয়েকটি Passive Income বা প্যাসিভ আয় করার মাধ্যম এবং ধারণা দেওয়া হবে। তাই নতুনদের জন্য এই প্রতিবেদনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক আমাদের আজকের প্রতিবেদন।

Top 10 প্যাসিভ ইনকাম এর লিস্ট

প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য অনেক গুলো মাধ্যম রয়েছে। নিচে সেই মাধ্যম গুলো এবং সেই সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হলো। আশা করি এই প্রতিবেদনটি আপনার অনেক উপকারে আসবে।

ইনভেস্টিং (Investing):

প্যাসিভ ইনকামের সবথেকে লাভজনক এবং জনপ্রিয় একটি উপায় হলো ইনভেস্টিং অর্থাৎ বিনিয়োগ করে টাকা আয় করা। আপনি যদি Professional ভাবে প্যাসিভ ইনকাম করতে চান তাহলে এই বিষয়ে আপনার যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

অর্থ বিনিয়োগ করার আগে বা অর্থ Invest করার আগে যথেষ্ট সতর্ক হতে হবে। কারণ সঠিক সময় ইনভেস্ট না করলে যেমন লাভ হবে না তেমনই অনেক বড় ধরনে লোকশানও হতে পারে। যেই কাজের জন্য আপনি ইনভেস্টিং করবেন সেই কাজের আপনার নিজের ধারণা থাকতে হবে।

অথবা সেই কাজে দক্ষ বা এক্সপার্টদের থেকে ধারণা নিতে হবে। Invest করার অনেক গুলো সহজ মাধ্যম রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ব্যবসাতে ইনভেস্ট করতে পারেন, কাঁচামালের Business এ ইনভেস্ট করতে পারেন, এছাড়াও বিভিন্ন Factory, Company, ইত্যাদিতেও ইনভেস্ট করতে পারেন। তবে ইনভেস্ট যেই ক্ষেত্রেই করেন না কেনো, আগে থেকে রিসার্চ করে তবেই Invest করা উচিত।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing):

প্যাসিভ আয় করার জন্য Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সবথেকে জনপ্রিয় মাধ্যম গুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও বর্তমানে সবথেকে আলোচিত একটি মার্কেটপ্লেস হলো Affiliate Marketing। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়া যায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত মার্কেটিং এর কাজ। অর্থাৎ সহজ ভাবে যদি বলি তহালে ছোট বড় কম্পানির Marketing করে দেওয়াকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। এই কাজটি করতে হলে আপনার নিজেস্ব একটা প্লাটফর্ম থাকতে হবে। যেমন, Facebook Group, Facebook Peage, Youtube, Website ইত্যাদি। আশা করি Affiliate Marketing সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে পেরেছি।

ক্যাশব্যাক রিওয়ার্ড (Cash-back Rewards):

প্যাসিভ ইনকামের একটি মাধ্যম হলো ক্যাম-ব্যাক রিওয়ার্ড। Online or Offline উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর ক্যাশ-ব্যাক অফার দেখা যায়। Mobile Banking এবং Credit Card এর ক্ষেত্রে cash-back একটি সাধারণ বিষয়।

ক্যাশ-ব্যাক রিওয়ার্ড point এর ক্ষেত্রে যে অর্থ cash-back হিসেবে পাওয়া যায়, সেটাকে আয় করা অর্থের সাথে তুলনা করা চলে। আর এভাবে কোনো hard work না করে ক্যাশ-ব্যাক এর টাকা Save করে টাকা আয় করা যায়।

কন্টেন্ট, ফটো বা ভিডিও বিক্রি:

কন্টেন্ট, ফটো বা ভিডিও বিক্রি (Selling content and photos and videos) করে প্যাসিভ ইনকাম করা যায়। উপরের এই তিনটি বিষষের চাদিহা বর্তমানে অনেক বেশি। ব্লগের জন্য কন্টেন্ট, ব্লগে বা ইউটিউবের জন্য ফটো এবং ফেসবুক, youtube এর জন্য ভিডিও চাহিদা অনেক। তাই এই বিষয়ে Passive Income করারটাও অনেক লাভজনক বলে আমি মনে করি।আশা করি এই তিনটি মাধ্যমে কিভাবে প্যাসিভ আইনকাম করার যায় সেই সম্পর্কে ধারতে দিতে পেরেছি।

ইউটিউব (YouTube):

ইউটিউব সম্পর্কে প্রায় সবার কম বেশি ধারণা রয়েছে। সার্চ ইঞ্জিনের দিক থেকে গুগলের পর ইউটিউব রয়েছে। অর্থাৎ গুগলের পর ইউটিউবে বেশি সর্চ করা হয়। ইউটিউবে আপনি যদি কষ্ট করে একবার Monetization on করতে পারেন, তাহলে এখান থেকে প্রতি মাসেই টাকা revenue আসবে। আর তাই এটাকে Passive Income বলা যেতেই পারে। ইউটিউব সম্পর্কে বেশি কিছু বলার নেই, শুধু ধারণা দিয়ে দিলাম।

অনলাইন কোর্স (Online courses):

বর্তমান সময়ে অনলাইন কোর্স ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমনকি আমাদের দেশের মানুষ টাকার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন কোর্স কিনে নেই। এমনকি আমি নিজেও অনলাইন কোর্স কিনেছি। Online courses এর মাধ্যমে আপনি যদি Passive Income বা প্যাসিভ আয় করতে চান তাহলে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উপর অনলাইন কোর্সের ভিডিও তৈরি করতে হবে। আর যেই বিষয়ে ভিডিও তৈরি করবেন সেই বিষয়ে ভালো ধারণা থাকতে হবে। যেমন On Page SEO, On Page SEO, Blogging, Youtubing, Educational ইত্যাদি বিষয়ে ভিডিও কোর্স তৈরি করতে পারেন। আশা করি এই বিষয়ে যথেষ্ট থারনা পেয়েছেন।

ব্লগিং (Blogging):

অনলাইনে Passive Income করার অনেক সহজ একটি মাধ্যম হলো Blogging। কম পরিশ্রমে এবং কম সময়ে ব্লগিং করে প্যাসিভ ইনকাম করা যায়। যদিও ব্লগিং এ প্রথম অবস্থায় Adsense এর জন্য বেশ পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু Adsense পাওয়ার পর কম পরিশ্রমে প্যাসিভ ইনকাম করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের প্রায় বেশির ভাগ মানুষ ব্লগিং করে থাকে। আমি নিজেও ব্লগিং করি তাই এই বিষয়ে বেশি কিছু বলব না। তবে যারা একদম নতুন তাদের জন্য বলব, ব্লগিং সম্পর্কে আপনাদের আরো বিস্তারিত জানতে হবে। আর তার জন্য আপনি ইউটিউব বা গুগলের সাহায্য নিতে পারেন।

রিয়েল এস্টেট (real estate):

শহর এলাকায় ফ্লাট বাড়ির চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে real estate agent এর চাহিদাও বেড়েই চলেছে। অনেকেই শহরের তৈরি করা ফ্লাট কিনে থাকেন। আপনি চাইলে ফ্লাট বাড়ির খবর নিয়ে অনুমতি সাপেক্ষে একটি agency তৈরি করতে পারেন। তবে এতে আপনাকে নিয়োমিত খোজ খবর রাখতে হবে। কখন কোন ব্যক্তি ফ্ল্যাট কিনবে এবং তার সাথে যোগাযোগ করে প্যাসিভ আইকাম করতে পারবেন। আশা করি এই ভিষয়ে সঠিক ধারণা পেয়েছেন।

বই লিখা (write a book):

বই লিখা বা কন্টেন্ট লিখা বিষয়টি এক মনে হলেও আসলে এক নয়। কন্টেন্ট আপনি এক দিনেই লেখতে পারবেন কিন্তু রাতারাতি বই লিখা সম্ভব হয় না। তবে কোনো বই লেখা সম্পন্ন করার পর একাধিক মাধ্যমে বিক্রি সম্ভব। E-book এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে যে কোনো বই বিক্রি করা বর্তমানে বেশ সহজ হয়ে গিয়েছে। প্যাসিভ ইনকাম এর একটি উত্তম মাধ্যম হতে পারে বই লেখা ও প্রকাশ করা।

 মেম্বারশিপ (membership):

Patreon এর নাম তো সবাই শুনে থাকবেন। এই site এ আর্টিস্ট তাদের Community থেকে একটি নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে বাড়তি সুবিধা দিয়ে থাকে। যেমন- কোনো Youtuber যিনি Graphics Design শেখান, তিনি  Patreon এ সাবস্ক্রাইবারদের জন্য feedback অথবা Collab Livestream করতে পারেন। এভাবে audience এর উপকার কারার পাশাপাশি বাড়তি কিছু সময় দিয়ে ভালো অংকের আয় করা যেতে পারে।

কোন প্যাসিভ আয়ের উৎস সবচেয়ে ভালো?

উপরের যে কোনো একটি মাধ্যমে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। কোন প্যাসিভ ইনকাম সোর্সটি সবচেয়ে ভালো সেই প্রশ্নটি বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার এলাকা, আয়ের কৌশল, দক্ষতা ও টাকা বিয়োগের উপর নিভর করবে আপনি কত সহজে কত টাকা আয় করতে পারবেন।

1 thought on “Passive Income: ১০টি প্যাসিভ ইনকাম আইডিয়া, টাকা আয়ের সহজ উপায়”

Leave a Comment